পৈতা পরার (পাল্টানোর) নিয়ম ও মন্ত্র।

 পৈতা পরার (পাল্টানোর) নিয়ম ও মন্ত্র


যজ্ঞোপবীতবর্ণনম্

যজ্ঞোপবীতং ত্রিসূত্রাত্মকং শুভম্।

প্রত্যেকসূত্রং ত্রিতন্তুময়ং স্মৃতম্॥


নবতন্তুসমায়ুতম্ এবং পরমপবিত্রম্।

ব্রহ্মগ্রন্থিযুক্তং হি যজ্ঞোপবীতম্॥



উপনয়ন কি?

উপনয়ন সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী বালকদের শিক্ষারম্ভকালীন একটি বৈদিক ও শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান, যেখানে বালকগণ পৈতা ধারণ করেন।

পৈতা ধারণের নিয়ম

১. পৈতা পরিষ্কার করুন:

প্রথমে বিশুদ্ধ জল বা সম্ভব হলে গঙ্গাজল দিয়ে পৈতাকে ধুয়ে নিন, যাতে এর উপর থাকা স্পর্শদোষ দূর হয়।

২. গায়ত্রী মন্ত্র জপ করুন:

পৈতাকে উভয় হাতের মধ্যে ধরে গায়ত্রী মন্ত্রটি মানসিক বা নমনীয় স্বরে পাঠ করুন।


গায়ত্রী মন্ত্র:

ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ

তৎ স বিতুর্বরেণ্যং

ভর্গো দেবস্য ধীমহি

ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ।।


অর্থ:

হে পরম শ্রদ্ধেয় দেবী (প্রকৃতি), যিনি দেবতাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ, আমরা আপনাকে ধ্যান করি। আমাদের মনকে শুভ পথে পরিচালিত করুন। আমাদের ভৌত জগৎ থেকে আকাশীয় জগৎ হয়ে উচ্চতর স্তরে পৌঁছে দিন।

৩. দেবতাদের আবাহন:

একটি থালায় ফুলের কিছু পাপড়ি ছিটিয়ে দিন এবং পৈতাকে থালার মধ্যে স্থাপন করুন।


যজ্ঞোপবীতবর্ণনম্

যজ্ঞোপবীতং ত্রিসূত্রাত্মকং শুভম্।

প্রত্যেকসূত্রং ত্রিতন্তুময়ং স্মৃতম্॥


নবতন্তুসমায়ুতম্ এবং পরমপবিত্রম্।

ব্রহ্মগ্রন্থিযুক্তং হি যজ্ঞোপবীতম্॥


এই রীতিতে পইতা  বা যজ্ঞোপবীতের নয় তন্তু, ত্রিসূত্র এবং এক ব্রহ্মগ্রন্থিতে দেবতাদের আবাহন করুন।

পইতা  বা যজ্ঞোপবীতের  9 তন্তুতে দেবতা আবাহন মন্ত্র :

প্রথমতন্তৌ – ॐ কারং আবাহয়ামি।

দ্বিতীয়তন্তৌ – ॐ অগ্নিং  আবাহয়ামি।

তৃতীয়তন্তৌ – ॐ নাগসর্পদেবতান্  আবাহয়ামি।

চতুর্থতন্তৌ – ॐ সোমং  আবাহয়ামি।

পঞ্চমতন্তৌ – ॐ পিতৃন্  আবাহয়ামি।

ষষ্ঠতন্তৌ – ॐ প্রজাপতিং  আবাহয়ামি।

সপ্তমতন্তৌ – ॐ অনিলং  আবাহয়ামি।

অষ্টমতন্তৌ – ॐ সূর্যং  আবাহয়ামি।

নবমতন্তৌ – ॐ বিশ্বদেবান্  আবাহয়ামি।

প্রতিটি মন্ত্র পাঠের সময় পৈতাতে আতপ চাল ও একটি করে ফুল দিন।

यज्ञोपवीतग्रन्थितत्त्वम्

মুক্ত ছন্দঃ

যাং গ্রন্থিং ন ধারয়তি ব্রহ্মতত্ত্বম্।

সা গ্রন্থিঃ নামমাত্রা, ন তু শুদ্ধতত্ত্বম্॥


৪. এতঃ যজ্ঞোপবীতের সূত্রে (3 সুতাতে)আবাহন‑মন্ত্র এই প্রকার হওয়া উচিত:

প্রথমসূত্র / প্রথমসূত্রে -
ॐ পরব্রহ্মণে নমঃ। চতুর্ব্যূহরূপিণং পরব্রহ্মাণম্ আবাহয়ামি।

দ্বিতীয়সূত্র / দ্বিতীয়সূত্রে-
ॐ ব্রহ্মণে নমঃ। ব্রহ্মাণম্ আবাহয়ামি।

তৃতীয়সূত্র / তৃতীয়সূত্রে-
ॐ রুদ্রায়  নমঃ। রুদ্রং আবাহয়ামি।

এতঃ যজ্ঞোপবীতের ব্রহ্মগ্রন্থিতে (গাঁট, গিরা বাঁধন ) আবাহন‑মন্ত্র এই প্রকার হওয়া উচিত-
ॐ পরব্রহ্মণে নমঃ। চতুর্ব্যূহরূপিণং পরব্রহ্মাণম্ আবাহয়ামি।

সব দেবতাদের আবাহন করার পরে পৈতার গ্রন্থিতে হলুদ ও ফুল নিবেদন করুন এবং বলুন, “আবাহিতদেবতায়াঃ যথাস্থানং ন্যাসয়ামি।

শাস্ত্রীয় টিপ্পণী:

বিভিন্ন গৃহ সূত্র যেমন আশ্বলায়ন গৃহ্যসূত্র  (গৃহ সূত্র) এবং পারস্কর গৃহ্যসূত্রে যজ্ঞোপবীতের পবিত্রতা, ত্রিগুণাত্মকতা এবং দেবসম্বন্ধের উল্লেখ আছে, যদিও এই  তন্তুতত্ত্ব  -আবাহন সর্বত্র সমানভাবে নির্দিষ্ট নয়। এই তত্ত্বটি  শাস্ত্র ও আচারপরম্পরার ভিত্তির উপর আধারিত। 

৫. পঞ্চোপচার পূজা:

এরপর দেবতাদের পঞ্চোপচার পূজা করুন।

৬. পৈতা ধারণ মন্ত্র:

হাতে জল নিয়ে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করুন।

যজুর্বেদীয় ও ঋগ্বেদীয়দের পৈতা ধারণ মন্ত্র:

ওঁ যজ্ঞোপবীতমিতি মন্ত্রস্য পরমেষ্ঠী প্রজাপতি ঋষি। ত্রিস্টুপছন্দ। লিঙ্গোক্তদেবতা। যজ্ঞোপবিতাধারণে বিনিয়োগঃ॥

ওঁ যজ্ঞোপবীতং পরমং পবিত্রং বৃহস্পতেৰ্যৎ সহজং পুরস্তাৎ। আয়ুষ্ঠমগ্র্যং প্রতিমুঞ্চ শুভ্রং যজ্ঞোপবীতং বলমস্তু তেজঃ॥

সামবেদীয়দের পৈতা ধারণ মন্ত্র:

ওঁ যজ্ঞোপবীতমিতি মন্ত্রস্য পরমেষ্ঠী প্রজাপতি ঋষি। যজুছন্দ। লিঙ্গোক্তদেবতা। যজ্ঞোপবিতাধারণে বিনিয়োগঃ॥

ওঁ যজ্ঞোপবীতমপি যজ্ঞস্ত ত্বোপবীতেনো পনোহামি।

৭. পুরাতন পৈতা খোলা:

নতুন পৈতা ধারণের পর পুরাতন পৈতাটি খুলুন এবং বলুন

এতাবদ্দিনপর্যন্তং ব্রহ্ম ত্বং ধারিতং ময়া।

জীর্ণত্বাত্ত্বত্পরিত্যাগঃ, গচ্ছ সূত্র যথা সুখম্॥

---------------------------------------------------

এত দিন পর্যন্ত ব্রহ্মত্বম ধরিতাম ময়া।

জীর্ণত্বাত্ব পরিত্যাগো গচ্ছ সূত্র যথা সুখম্।

---------------------------------------------------

৮. পুরাতন পৈতার সৎ ক্রিয়া:

পুরাতন পৈতাকে তুলসী মঞ্চে, মন্দিরের প্রাঙ্গণে বা পবিত্র নদীতে সমাধিস্থ করুন এবং সর্বশক্তিমানকে স্মরণ করুন।

এভাবেই সঠিক নিয়ম মেনে পৈতা ধারণ ও পরিবর্তন করতে হয়।

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

যজ্ঞোপবীত ধারণ
শৃণুত দ্বিজগণাঃ সর্বে সত্যং বচনমুত্তমম্।
ধারয়িতব্যং পবিত্রং যজ্ঞোপবীতং শাস্ত্রসম্মতম্॥
নাভেরধঃ ন যজ্ঞোপবীতং পতিতং স্যাত্ কদাচন।
ধর্মার্থং ধারয়েত্ নিত্যং শাস্ত্রদৃষ্ট্যা দ্বিজোত্তমঃ॥
वसिष्ठस्मृति (4.16) मनुस्मृति (2.63)
कात्यायनस्मृति: देवलस्मृति (10.4):
💧
ব্রাহ্মণ–ব্রাহ্মণত্বম্
ব্রাহ্মণো ন কুর্যাদ্ ব্রাহ্মণত্বাভিমানম্।
ব্রাহ্মণস্যৈষ অভিমানঃ শত্রুরেব সমঃ॥
বিনম্রতৈব পাণ্ডিত্যং ব্রাহ্মণস্য শ্রেষ্ঠং শস্ত্রম্।
তস্য শস্ত্রস্যাগ্রে সর্বং নতমস্তকম্॥
💓
উপবীতবর্জনম্।
দ্বিজানাং বহবঃ কৃতবন্তঃ উপবীতধারণস্য বর্জনম্।
অবিদ্যাপরিস্থিতিঃ অস্য মুখ্যং কারণম্।
সনাতনরীত্যনুসারম্ এতত্ মহাহিতকরম্।
দ্বিজানাং উপবীতধারণং চিরন্তনং কর্তব্যম্॥
ब्रह्मग्रन्थिः-उपवीतं यज्ञोपवीतम्
(मुक्तछन्दः)
द्विजाः संधारयन्ति ब्रह्मग्रन्थिमुपवीतरूपं ब्रह्मसूत्रम्।
न तत्र ब्रह्मांशः, कथं तद्भवेत् ब्रह्मसूत्रम्?॥
यत्र ब्रह्मग्रन्थिरस्ति, न तु ब्रह्मांशोऽप्यिति धर्ममतम्।
शास्त्रज्ञा गुरवो ब्रुवन्त्वेतत्-किमेतत् धर्मसम्मतम्?॥

ব্রহ্মগ্রন্থিঃ-উপবীতং যজ্ঞোপবীতম্
(মুক্তছন্দঃ)
দ্বিজাঃ সংধারয়ন্তি ব্রহ্মগ্রন্থিমুপবীতরূপং ব্রহ্মসূত্রম্।
ন তত্র ব্রহ্মাংশঃ, কথং তদ্ভবেত্ ব্রহ্মসূত্রম্?॥
যত্র ব্রহ্মগ্রন্থিরস্তি, ন তু ব্রহ্মাংশোঽপ্যিতি ধর্মমতম্।
শাস্ত্রজ্ঞা গুরবো ব্রুবন্ত্বেতত্-কিমেতত্ ধর্মসম্মতম্?॥

गुरु-स्तोत्रम्
(गुरुतत्त्व)
गुरुर्ब्रह्मा गुरुः शंकरः गुरुर्देवो जगदीश्वरः।
गुरुः साक्षात् परं ब्रह्म तस्मै श्रीगुरवे नमः॥

सिद्धगुरोर्द्वौ गुणौ स्मृतौ -सिद्धिश्च ब्रह्मज्ञानम्।
ताभ्यां यः शिक्षयेत् शिष्यान् स एव श्रीगुरुः मतः॥

গুরু-স্তোত্রम्
(গুরুতত্ত্ব)
গুরুর্ব্রহ্মা গুরুঃ শংকরঃ গুরুর্দেবো জগদীশ্বরঃ।
গুরুঃ সাক্ষাৎ পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ॥

সিদ্ধগুরোর্দ্বৌ গুণৌ স্মৃতৌ - সিদ্ধিশ্চ ব্রহ্মজ্ঞানम्।
তাভ্যাং যঃ শিক্ষয়েত্ শিষ্যান্ স এব শ্রীগুরুঃ মতঃ॥
💓

Popular posts from this blog

শ্রীজগন্নাথস্তোত্রम् - শ্রী হরি নারায়ণের পূজা

কলিযুগের পতন, সত্য যুগের প্রকাশ ।