কলিযুগের পতন, সত্য যুগের প্রকাশ ।
কলিযুগের পতন।
কলিযুগের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
কলিযুগে মানুষ মেশিনের সাহায্যে অসংখ্য আবিষ্কার করবে, নতুন ইতিহাস তৈরি করবে এবং অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করবে। মানুষ অমরত্বের সন্ধানে অগ্রসর হবে এবং মহাকাশে ভ্রমণ করবে। চতুরাশ্রম প্রথা ধ্বংস হয়ে যাবে, যার ফলে বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি দেখা দেবে।
ঋষি মার্কণ্ডেয়র মতে কলিযুগের মানব চরিত্র:
১. কলিযুগের মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে লোভ ও ক্রোধ।
২. মানুষ একে অপরকে ঘৃণা করবে এবং ধর্মের জ্ঞানহীনতা বাড়বে।
৩. সামান্য ঝগড়া-বিবাদের জন্য মানুষ খুন করবে এবং অপরাধবোধ অনুভব করবে না।
৪. লালসা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে এবং যৌনাচারকে জীবনের মূল প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
৫. পাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। মানুষ মাদক ও বিভিন্ন আসক্তির শিকার হবে।
৬. ব্রাহ্মণরা জ্ঞান ও বিচক্ষণতা হারাবেন, ক্ষত্রিয়রা সাহস হারাবেন এবং ব্যবসায়ীরা অসাধু হয়ে পড়বেন।
কলিযুগের শাসকদের বৈশিষ্ট্য:
১. শাসকেরা অন্যায়ভাবে কর আদায় করবেন এবং প্রজাদের রক্ষা ও আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পালন করবেন না।
২. বেশিরভাগ শাসক আত্মস্বার্থে অন্ধ হয়ে সমাজ ও পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠবেন।
৩. চিকিৎসকদের মধ্যে সেবা ভাব কমে যাবে এবং অর্থ উপার্জনের প্রবণতা বাড়বে।
৪. শিক্ষা ব্যবসায় পরিণত হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হিংসা ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখা দেবে।
৫. মানুষ বেদ অধ্যয়ন করবে না এবং অশাস্ত্রীয় তপস্যা করবে।
পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি:
১. পিতা-মাতা ও সন্তানদের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়বে।
২. কলিযুগের শেষ পর্যায়ে সন্তানরা পিতা-মাতাকে হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করবে না।
৩. ভাই-বোনদের মধ্যেও শত্রুভাব দেখা দেবে।
৪. সন্তানরা পিতামাতার অবাধ্য হয়ে তাদের পরামর্শ ছাড়াই বিবাহ করবে এবং প্রয়োজনে তাদের হত্যা করতে কুণ্ঠাবোধ করবে না।
৫. পুত্রবধূদের প্রতি শ্বশুর-শাশুড়ির বিদ্বেষ থাকবে এবং ষড়যন্ত্র করে তাদের ক্ষতি করার প্রবণতা বাড়বে।
নারীর আচরণ:
১. অনেক নারী নিজেদের অত্যন্ত সুন্দরী মনে করবেন এবং বিলাসপণ্যকে ভালোবাসবেন।
২. তারা স্বেচ্ছাচারিণী হয়ে পড়বেন এবং মিথ্যা কথা বলবেন।
৩. পতিদের অবহেলা করবেন এবং নিজের দেহ পোষণে ব্যস্ত থাকবেন।
পুরুষের আচরণ:
১. পুরুষেরা মদ, মাংস, মহিলা এবং ধনসম্পদের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বেন।
২. অবিবাহিত পুরুষ ও নারীরা একসঙ্গে বসবাস করবে।
সামাজিক ও নৈতিক পতন:
১. মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে কাজ ও খাদ্যের সন্ধানে যাবে।
২. ধনী ব্যক্তিরা দরিদ্রদের সাহায্য করবে না।
৩. কলিযুগে চৌর্যবৃত্তি ও ঠকবাজি বৃদ্ধি পাবে।
৪. ধর্ম ও নৈতিকতার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাবে।
৫.মানুষ প্রকৃতি ও পশুপাখিদের ওপর অত্যাচার করবে।
দুর্ভাগ্যম্
মম দুর্ভাগ্যস্য কারণং নান্যো দোষী।
মম দুর্ভাগ্যস্য কারণং অহম্ এব দোষী॥
দুর্ভাগ্যেঅপি অহং পশ্যামি নবং প্রকাশম্।
দুর্ভাগ্যস্য নাশাত্ সর্বং পুনঃ ভবিতা সুখদম্॥
দুর্ভাগ্যং কদাপি ন মন্যেত মহাঅহিতকরম্।
দুর্ভাগ্যনাশাত্ পুনরাগমিষ্যতি সুখং পরম্॥
दुर्भाग्यम्
मम दुर्भाग्यस्य कारणं नान्यो दोषी।
मम दुर्भाग्यस्य कारणं अहम् एव दोषी॥
दुर्भाग्येऽपि अहं पश्यामि नवं प्रकाशम्।
दुर्भाग्यस्य नाशात् सर्वं पुनः भविता सुखदम्॥
दुर्भाग्यं कदापि न मन्येत महाऽहितकरम्।
दुर्भाग्यनाशात् पुनरागमिष्यति सुखं परम्॥
কলিযুগের পতনের গ্রহ অবস্থান
"শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ" অনুযায়ী, যখন চাঁদ, সূর্য এবং বৃহস্পতি এক রাশিতে অবস্থান করবে, তখন সত্যযুগের যুগ সন্ধ্যা শুরু হবে। উক্তি: "যদা চন্দ্রশ্চ সূর্যশ্চ তথা তিষ্যবৃহস্পতী। একরাশৌ সমেষ্যন্তি ভবিষ্যতি তদা কৃতম্।।"অর্থাৎ চাঁদ, সূর্য এবং বৃহস্পতির এই সংযোগ কলিযুগের পতন এবং সত্যযুগের সূচনা নির্দেশ করবে।
খুব শীঘ্রই সত্য যুগ প্রকাশ পাবে।
ভগবান শ্রী জগন্নাথ মহাপ্রভু দ্বারা কথিত পঞ্চ সখা দ্বারা লিখিত পুস্তক ভবিষ্য মালিকা অনুযায়ী কলি ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে । খুব শীঘ্রই সত্য যুগ প্রকাশ পাবে।
स्वयमेव प्रतीयते सत्यं
(सत्यस्वरूपबोधः)
सर्वजीवः सत्यासत्यभेदं विदितुमर्हति।
दिव्यशक्तिमान् यः सन् दिव्यभाग् वा भवति,
तस्य प्रामाणिकीर्तिः सर्वतोऽविच्छिन्ना स्यात्।
न प्रतीयते कश्चित्, स्वयमेव प्रतीयते सत्यं॥
স্বয়মেব প্রতীয়তে সত্যং
(সত্যস্বরূপবোধঃ)
সর্বজীবঃ সত্যাসত্যভেদং বিদিতুমর্হতি।
দিব্যশক্তিমান্ যঃ সন্দিব্যভাগ্ বা ভবতি,
তস্য প্রামাণিকীর্তিঃ সর্বতোঽবিচ্ছিন্না স্যাত্।
ন প্রতীয়তে কশ্চিত্, স্বয়মেব প্রতীয়তে সত্যং॥
কলি যুগে প্রাদুরাসীত্, কলিদোষবিনাশকম্॥
💧
কল্কি–ধর্মসেনা-গীত।
চল রে, চল রে, চল।
ঊর্ধ্ব গগনে দেখ শতদল,
নিম্নে অশান্ত ধরনীতল।
পরমব্রহ্মের ধর্মসেনা,
চল রে, চল রে, চল।
ঊর্ধ্ব গগনে শঙ্খনাদ, নিম্নে শত্রু-দল।
কল্কি-রামের কল্কি-সেনা,
চল রে, চল রে, চল।
আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত কর,
প্রকম্পিত কর জল -স্থল।
পরমব্রহ্মের ধর্মসেনা,
চল রে, চল রে, চল।



